রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মানুষ দিনে একটু বিশ্রাম নিলে স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু বিড়াল? তারা যেন সারাদিনই ঘুমায়। প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ বিড়াল দিনে গড়ে ১২–১৬ ঘণ্টা ঘুমায়, আর ছোট ছানাদের ক্ষেত্রে এই সময় আরও বেশি। দেখে মনে হতে পারে, তারা অলস, কিন্তু বিজ্ঞান এ ধারণা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে।
গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে, বিড়ালের ঘুমের পরিমাণ তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ও বিবর্তনগত ইতিহাস থেকে এসেছে। যতোই তারা গৃহপালিত হোক না কেন, তাদের পূর্বপুরুষ বন্য প্রকৃতির শিকারি ছিল। শিকার করতে গিয়ে প্রচুর শক্তি খরচ হতো দৌড়, ঝাঁপ, ওৎ পেতে থাকা যা এক ধরনের শক্তি সঞ্চয়ের বিস্ফোরণ ছিল। তাই দিনের দীর্ঘ সময় বিশ্রামে কাটানো তাদের স্বাভাবিক অভ্যাস। বর্তমানেও সেই বায়োলজিক্যাল ক্লক তাদের মধ্যে রয়ে গেছে, যদিও শিকার এখন আর প্রয়োজন নেই।
বিড়ালের ঘুমের প্রায় ৭৫% সময় হয় হালকা ঘুম বা ‘ক্যাট ন্যাপ’, যখন সামান্য শব্দেই তারা ততক্ষণাৎ জেগে যায়। বাকি ২৫% সময় তারা গভীর ঘুমে থাকে, যখন শরীর পুরোপুরি শিথিল হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গভীর ঘুমের সময়ে বিড়াল প্রায়ই শিকার সংক্রান্ত স্বপ্ন দেখে। তাই কখনও পা নড়ানো, গোঁফ কাঁপা বা হালকা আওয়াজ আসলে তাদের স্বপ্নের প্রতিফলন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিড়াল আসলে নিশাচর নয়, বরং ক্রেপাসকুলার যার অর্থ তারা ভোরবেলা ও গোধূলি সময় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। দিনের উজ্জ্বল আলো এবং গভীর রাতের সময় তারা বিশ্রামে থাকে। এ কারণেই দুপুর বা মধ্যরাতে তাদের ঘুমন্ত দেখা যায়।
বিড়ালের শরীরে হাজার বছরের বিবর্তনের ছাপ রয়েছে। তাই পরেরবার ঘুমন্ত বিড়াল দেখলে বিরক্ত না হয়ে ভাবুন, হয়তো সে শক্তি সঞ্চয় করছে বা ঘুমের দেশে ইঁদুর ধরার স্বপ্ন দেখছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম