রাবি প্রতিনিধি: তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আম্মারের মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শাখা ছাত্রদল আয়োজিত পূর্বঘোষিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এই দাবি জানান।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মার রাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা দুর্ভাগ্য। যার চোখের দিকে তাকিয়ে আমরা আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সে তার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলি, কুত্তা আর টোকাই পেটাতে হেডাম লাগে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য ধৈর্য ধরে আছি। ধৈর্যের যদি বিচ্যুতি ঘটে, বাংলাদেশের কারোর শরীরে মানচিত্র রাখব না।’
প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে রাহী বলেন, ‘অনতিবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মানসিক ভারসাম্যহীন, উন্মাদ, সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন আম্মারের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, উপাচার্য এবং দুই উপ-উপাচার্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি টার্ম আছে—নার্সিসিজম সিনড্রোম, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কল্পনা করেন এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে অনেক বড় মনে করেন। এছাড়া “ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান” নামে একটি মুভি আছে, যেখানে ১৯ বছরের একটি ছেলে নিজেকে কখনো ডাক্তার, পাইলট বা অন্যান্য চরিত্রে কল্পনা করত এবং অভিজ্ঞতা ছাড়াই সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করত। আমাদের রাকসু জিএসের অবস্থাও হয়েছে তেমন। জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সে যত কাজ করবে, ছাত্রদল তাকে সমর্থন করবে। কিন্তু সে যখন সীমা লঙ্ঘন করবে, তখন সেটাকে বিষয়ভিত্তিকভাবে আখ্যায়িত করব।’
মিঠু আরও বলেন, ‘তিনি ফেসবুকে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। কিন্তু ফেসবুক তো কোনো অফিসিয়াল কাজের মাধ্যম নয়। তাই তার এই ধরনের কাজ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষকের কলার টেনে ধরা, ভবনে তালা মেরে দেওয়া—এগুলো কোনো ছাত্রের কাজ নয়। সে ছাত্র হয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঐ সিনেমার মতো সে নার্সিসিজম সিনড্রোমে ভুগছে। সুতরাং তার চিকিৎসার দরকার।’
সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আম্মার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তারুণ্যের উন্মাদনার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। তারুণ্যের উন্মাদনা আর মানসিক বিকারগ্রস্ত এক নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থির করছে, তাদের দ্রুত বয়কট করুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সকল অপরাধী ও মানসিক বিকারগ্রস্তদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রস্তুত আছে। মানুষ যখন শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছায়, এক পর্যায়ে তাকে বলা হয় পাগলা কুকুরে কামড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে দেব না। আপনারা দ্রুত এই পাগল, পাগলা কুকুরের মানসিক সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। যারা চিকিৎসা করেন, তাদের বলেন এই পাগলা কুকুরকে নিয়ে গিয়ে ভ্যাকসিন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে। আমাদের এই পাগল, ভারসাম্যহীন রোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শুভেচ্ছা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। সে কি কুলাঙ্গার যে আমাদের কলিজার নেতা তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে?’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের স্মারকলিপি দেওয়ার পর তার (আম্মার) সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এই পাগলা কুকুরের হাত থেকে রক্ষা করতেই হবে। তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করুন অথবা তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিন। যদি তা না করেন, তাহলে আমরাই এই পাগল সালাহউদ্দিন আম্মারকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠাব।’
মানববন্ধন শেষে শাখা ছাত্রদল আম্মারের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
স্মারকলিপি বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারের তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো ব্যানার দুপুর ২টার আগে খুলে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন আম্মার। পরে নির্ধারিত সময় (দুপুর ২টা) অতিক্রম করায় তিনি নিজেই ওই ব্যানার খুলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করেন। এরপর রাতে আম্মারের মানসিক চিকিৎসার আহ্বান জানিয়ে আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাখা ছাত্রদল।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন