স্টাফ রিপোর্টার: বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত প্রতিটি খুন, গুম ও ধর্ষণের বিচার দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া যেন মাঝপথে থেমে না যায়, বরং তা উসমান হাদি হত্যার হোতাদের কাছেও পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যত অপরাধ হয়েছে, যত জায়গায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সবগুলোরই বিচার করতে হবে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা স্বচ্ছ বিচার চাই, সবুজ পতাকা দেখতে চাই। শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের আবেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মজলুমের পাওনা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে, না হলে শহীদদের আত্মা এবং নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নার দায় সংসদ এড়াতে পারবে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষাঙ্গনে দখলবাজি ও অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দখলবাজির কারণে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। ১ শতাংশ মানুষের হাতে ৯৯ শতাংশ মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, বলেন তিনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন।
গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিরও দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তার ভাষায়, বর্তমানে গবেষণায় যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যেন শিশু হিসেবে শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করে নৈতিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম নিয়ে বের হতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষ আর কোনো প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়। সরকার সাহস করে পদক্ষেপ নিলে কোনো বিদেশি শক্তির চোখ রাঙানি আমরা পরোয়া করব না, বলেন তিনি।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অপরিবর্তনীয় মনে করার কারণ নেই। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেই ওই সংবিধানের অনেক অংশ সংশোধন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংস্কার করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সংবিধান মানা না মানা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের অসামঞ্জস্য দূর করার দাবি জানানো নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে বিরোধী দল পূর্ণ সহযোগিতা করবে, তবে ভুল করলে কঠোর বিরোধিতা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি