রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যরাতে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রের পাশাপাশি মসজিদ, মক্তব ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্থাপনাসহ অসংখ্য অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে আগুন লাগার ফলে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের একটি লার্নিং সেন্টার (শিখন কেন্দ্র) থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতঘর ও শেডে ছড়িয়ে পড়ে। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে শত শত রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরবর্তীতে আরও ইউনিট যুক্ত হয়। মোট আটটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টায় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে একটি লার্নিং সেন্টারসহ বহু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে অন্তত ৪৪৮টি ঘর, ১০টি স্কুল, ২টি মসজিদ এবং একটি মক্তব আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল আগুনে ভস্মীভূত হয়। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে পৃথক আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম