স্টাফ রিপোর্টার: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। ফলে আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জামিন শুনানি শেষে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর এ আদেশ দেন। উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় আনিস আলমগীর গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন।
শুনানি শেষে আনিস আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী তাসলিমা জাহান সাংবাদিকদের জানান, এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও সেটিও নামঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী ধাপে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিনের আবেদন জানানো হলে আদালত তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, এখন আমরা হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করবো।
জামিন আবেদনে আনিস আলমগীরের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ ব্যক্তি। মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এজাহারে তার নাম থাকলেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা ভূমিকার উল্লেখ নেই বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবীরা আরও বলেন, আনিস আলমগীর কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সদস্য নন। তিনি একজন সুপরিচিত সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষক হিসেবে সমাজে পরিচিত। মামলায় যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জামিন আবেদনে দাবি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
সাংবাদিক মহলের একটি অংশ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছে। এখন হাইকোর্টে জামিন আবেদনের ওপরই নির্ভর করছে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি