বিনোদন ডেস্ক: কোনো সিনেমা কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে মডেল রিতিকা গিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের ছবিতে দেখা যায়, লাল বেনারসি শাড়িতে রিতিকা এবং হলুদ কুর্তায় হিরণ। বিয়ের বিষয়টি প্রথমে নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন অভিনেতা।
তবে সেই পোস্ট প্রকাশের পরপরই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। মুহূর্তের মধ্যেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লে হিরণ পোস্টটি মুছে ফেলেন। কলকাতার বাইরে, দূর বারাণসীতে গিয়ে কেন গোপনে বিয়ে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এই বিয়েকে ঘিরে জোরালো আপত্তি তুলেছেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।
এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনিন্দিতা বলেন, আমাদের এখনও আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি। আমাকে কিছু না জানিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আইন ও নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই এই বিয়ে বৈধ নয়। তিনি সরাসরি এই বিয়েকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন।
এখানেই শেষ নয়, হিরণের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অনিন্দিতার দাবি, দীর্ঘ এক বছর ধরে নিজের মেয়ের কোনো খোঁজই রাখছেন না অভিনেতা। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মেয়েটি।
তিনি বলেন, আমার মেয়েটাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো নয়। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। একজন বাবা যখন নিজের সন্তানের দায়িত্ব এড়িয়ে যান, তখন সেই ক্ষত আজীবন থেকে যায়।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। বিষয়টি শুধু পারিবারিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও। এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেতা-বিধায়ক কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম