স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিবেশী দেশ থেকে ভর্তুকিযুক্ত সুতা আমদানির কারণে দেশের স্পিনিং মিলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা বন্ধে সরকারকে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বিটিএমএ’র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, দাবি আদায় না হলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিটিএমএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে মিল মালিকরা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো সরকারের প্রণোদনা পাওয়ায় প্রতি কেজি সুতা বাংলাদেশের চেয়ে ৩০-৩৫ সেন্ট কম দামে রপ্তানি করতে পারছে। এর ফলে গত এক বছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি ১৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় দেশীয় শিল্প রক্ষায় সুতা আমদানিতে বিদ্যমান অসম সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নীতি গ্রহণে দেরি হলে দেশের টেক্সটাইল সেক্টর চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অন্তত ৫০টি মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
সভায় মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ১০-৩০ কাউন্টের সুতা বন্ড সুবিধার বাইরে নেওয়ার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। বিটিএমএ আশা প্রকাশ করেছে, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প, বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সভায় বিটিএমএ’র পরিচালক মো. বাদশা মিয়া, যমুনা গ্রুপ ও আকিজ টেক্সটাইলসহ শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি