| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের: এপি অনুসন্ধান

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ ইং | ১৬:৪৩:০৯:অপরাহ্ন  |  ৮৪৬০১২ বার পঠিত
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের: এপি অনুসন্ধান
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আল জাজিরা প্রতিবেদন: রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছেএমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সহিংসতা, কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুর হুমকি দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী মাকসুদুর রহমান বলেন, এক শ্রমিক দালাল তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় পাঠায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন সীমান্তের যুদ্ধফ্রন্টে দেখতে পান।

এপি তিনজন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা রাশিয়ার সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাকসুদুর রহমান জানান, মস্কো পৌঁছানোর পর তাকে ও আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে জানা যায় সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তিপত্র।

এরপর তাদের একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে ড্রোন যুদ্ধ, আহত সেনা উদ্ধার এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আপত্তি জানালে এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে বলেন, তোমাদের এজেন্ট তোমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি।

মাকসুদুর রহমান জানান, তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয় এবং নিয়মিত মারধর করা হতো। সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।

এ ছাড়া নিখোঁজ তিন বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এপি বলছে, এসব অভিযোগের পক্ষে ভ্রমণ নথি, রুশ সামরিক চুক্তিপত্র, চিকিৎসা ও পুলিশ রিপোর্ট এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি সংগ্রহ করেছে তারা।

এই বাংলাদেশিরা জানান, তাদের জোর করে সম্মুখসমরে পাঠানো হতো রুশ সেনাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহতদের সরানো এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ছিল তাদের কাজ।

শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান ও ইরাকের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের দেশের নাগরিকদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মোহন মিয়াজি বলেন, তিনি প্রথমে রাশিয়ার এক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতে যান। পরে অনলাইনে চাকরি খুঁজতে গিয়ে এক রুশ সেনা নিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তাকে বলা হয়, যেহেতু তিনি ইলেকট্রিশিয়ান, তাই যুদ্ধ নয় ড্রোন বা ইলেকট্রনিক ইউনিটে কাজ করবেন।

কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে ইউক্রেনের দখলকৃত আভদিভকা শহরের একটি সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সেখানে কমান্ডার তাকে জানান, তিনি প্রতারিত হয়েছেন এবং ব্যাটালিয়নে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেলচা দিয়ে মারধর, হাতকড়া পরানো এবং বেসমেন্টে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে জানান মিয়াজি।

এপি জানায়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার কেউই এ বিষয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।এদিকে নিখোঁজদের পরিবার বাংলাদেশে থানায় অভিযোগ করেছে এবং একাধিকবার ঢাকায় এসে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের সালমা আক্তার জানান, তার স্বামী আজগর হোসেন (৪০) গত বছরের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় যান লন্ড্রি অ্যাটেনডেন্টের চাকরির আশ্বাসে। মার্চ ২৬-এর পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।

শেষবার তিনি ফোনে জানিয়েছিলেন, তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮০ কেজি পর্যন্ত ভার বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পরে দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ করে বলেন, যুদ্ধ করতে না গেলে তাকে আটক, গুলি কিংবা খাবার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা দালালের কাছে জবাব চাইলে সে বলে, রাশিয়ায় এটাই নিয়ম লন্ড্রি কর্মীদেরও সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

আজগর হোসেনের শেষ অডিও বার্তায় স্ত্রীকে বলা কথা ছিল,আমার জন্য দোয়া কোরো।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪