| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রধান উপদেষ্টাকে খোলাচিঠি

নির্বাচনকালে মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা চাইলেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ ইং | ২৩:৩৫:১৮:অপরাহ্ন  |  ৮৪২৪৫৬ বার পঠিত
নির্বাচনকালে মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা চাইলেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব
ছবির ক্যাপশন: অ্যামনেস্টির মহাসচিব

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে লেখা এক খোলাচিঠিতে এই আহ্বান জানান সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে খোলাচিঠিটি প্রকাশ করা হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পাঠানো ওই চিঠিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অব্যাহত অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জীবন ও ব্যক্তির নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এসব অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন, নীতি ও বিধান কার্যকর করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

খোলাচিঠিতে অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় মানবাধিকার সমুন্নত রাখার যে বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ওপর রয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। সরকার সেই দায়িত্ব কতটা পালন করতে সক্ষম হয়, তা প্রমাণের জন্য আগামী কয়েকটি সপ্তাহ হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়সহ সব পরিস্থিতিতে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। নাগরিকেরা যেন নির্ভয়ে ও পূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য প্রধান উপদেষ্টার সরকারকে প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় দিতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ করতে গিয়ে যেন কাউকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে না হয় এ বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদগুলোর স্বাক্ষরকারী হলেও অন্তর্বর্তী প্রশাসন সেসব বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার–সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-এর কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অ্যামনেস্টি মহাসচিবের মতে, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর এ ধরনের বেআইনি বিধিনিষেধ জনসাধারণের মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাও ক্ষুণ্ন করে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও সমালোচকদের দমনে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ)-এর অপব্যবহার করেছে। উদাহরণ হিসেবে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে ২০২৫ সালের আগস্টে ‘অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের চেষ্টার’ অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। একইভাবে ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর’ অভিযোগে এই আইনে আটক করা হয়। অ্যামনেস্টির মতে, এসব গ্রেপ্তার মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

খোলাচিঠিতে গত ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদি নিহত হওয়ার পর সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই দিন দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর হেনস্তার শিকার হন। একই দিনে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪