বগুড়া প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের পৈতৃক জেলা বগুড়ার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ এই মুহূর্তে আপনাদের কিছু দেওয়ার নেই আমার। আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। নিজের ঘরের মানুষের কাছে এমন আবেগঘন কণ্ঠে আকুতি জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নওগাঁর জনসভা শেষ করে প্রায় মধ্যরাতে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে পৌঁছান তারেক রহমান। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ছুঁইছুঁই করলেও সময়ের বাধা উপেক্ষা করে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য মাঠ ও আশপাশের এলাকায় আগেই জমায়েত হন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। স্লোগান আর করতালিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
নির্বাচনী জনসভা হলেও নিজের জেলার মানুষের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঘরের মানুষের কাছে নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। তবে এবারের নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষকে জয়ী করতে বগুড়াবাসীর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি এত রাতে মিটিং করছি, রাজনীতি করছি—আমার স্ত্রী যদি সহযোগিতা না করতেন, আমি পারতাম না। উনি আছেন বলেই আমি আজও লড়াই চালিয়ে যেতে পারছি।
উত্তরবঙ্গ সফরের শুরু থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন জুবাইদা রহমান। প্রচারগাড়ি থেকে শুরু করে জনসভার মঞ্চ—সবখানেই তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। স্ত্রীর সহযোগিতার উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, বগুড়াবাসী যদি তার পাশে থাকে, মানসিক শক্তি ও সমর্থন দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
বগুড়ার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন। বলেন, বগুড়ার ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে, তবে সে পথে গিয়ে যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
২০০১-২০০৬ সালের সময়কাল এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তারেক রহমান বলেন, এবার শুধু নিজেদের এলাকার কথা ভাবলে চলবে না। বগুড়াবাসীকে গোটা দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
এর আগে দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি পর্যবেক্ষক দল জনসভাস্থল পরিদর্শন করে। গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, যা বগুড়ায় তারেক রহমানের উপস্থিতিকে ঘিরে ব্যাপক জনউচ্ছ্বাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি