বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকা থেকে নিশানবাড়িয়া পর্যন্ত ২২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
জানা গেছে, জেলা শহরের সঙ্গে সদর উপজেলা ও চারটি ইউনিয়নের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কারে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৩২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের মার্চে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও খোয়া সরে গিয়ে রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সড়কে দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।
সড়কের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালি ও অসমতল বালির স্তূপ জমে থাকায় হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গর্জনবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা হাফেজ ইসমাইল বলেন, ‘সড়কের অবস্থা এত খারাপ যে শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তায় নামলেই ধুলায় ভরে যায় শরীর। শুধু আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই, আমরা দ্রুত কাজ শেষ হতে দেখতে চাই।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নানা অজুহাতে মন্তব্য এড়িয়ে যান। তবে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বরত ব্যক্তি আল আমিন বলেন, ‘আমরা দ্রুতই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’
অন্যদিকে, এলজিইডি বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হবে।’
তবে দীর্ঘ বিলম্ব ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগের পরও প্রকল্পটি কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন