স্টাফ রিপোর্টার: সাইবার বুলিং বন্ধসহ নারীর সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালয় উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড) আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসিন রোজী, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএ’র মনোনীত ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুকলা, শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, সাংবাদিক জাইমা ইসলাম, ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা প্রমুখ।
জাইমা রহমান বলেন, ‘একটা বড় জিনিসটা, আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত, নারী নিরাপত্তার দিক থেকে, সাইবার বুলিং ও শারীরিক নিরাপত্তার দিক থেকে। আমাদের পলিটিকাল পার্টিকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর যদি কোড অব কন্ডাক্ট থাকে। আমাদের আইন তো আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। দায়িত্ব কোড অব কন্ডাক্ট, সেফটির দিক থেকে। যদি নারী নেত্রী হয়, কোন স্টুডেন্ট লিডার কোন কিছু হয় তাহলে আইনগতভাবে, কোড অব কন্ডাক্টের ভেতরে যদি কিছু হয় আমরা দায়িত্বটা নেব যে, আমরা ওনাকে প্রটেক্ট করব, ওনার পাশে থাকব, ওনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকব, ছেড়ে দেব না, এই জিনিসটা চিন্তা করতে লাগবে।’
নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাইমা রহমান বলেন, ‘যদি নারীরা না থাকে পলিসি বানানোর সময় তাহলে কিন্তু পুরোপুরি আমরা জানতে পারব না। এজন্য পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন খুবই জরুরি। কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশনে অনেক দিক দিয়ে হয়তোবা কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে, অনেক ব্যারিয়ার্স থাকে স্ট্রাকচারাল সিস্টেমেটিক ব্যারিয়ার্স। ওইগুলা আমরাই শুধু হয়তোবা বুঝতে পারব। ফর এক্সাম্পল ডে কেয়ার সেন্টার। এখন ডে কেয়ার শুধু একটা খেলনা ঘর হলে তো হয় না। সুন্দর একজন ট্রেইনার যদি থাকে, কয়েকটা ওদের শিফট লাগবে। বড় একটা জায়গা লাগবে। বুঝতে হবে যে, কোন বয়স থেকে কোন বয়স ওদের খাবারের ব্যবস্থা, ওদের সুস্থ থাকার ব্যবস্থা। কোনো বাচ্চা অসুস্থ থাকলে তাকে ঠিকভাবে সামাল দেওয়া। এগুলো যদি ঠিক না হয়, তাহলে মায়েরা তো ঠিক কাজ করতে পারবে না।’
নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নেতা তৈরির পাইপলাইন ঠিক রাখা জরুরি উল্লেখ করে জাইমা বলেন, ‘স্টুডেন্ট লিডার থেকে, লোকাল গভমেন্ট থেকে ওই পাইপলাইনটা যদি সৃষ্টি না করা হয়; আর এই পাইপলাইনটা ধরে রাখা যদি না হয়, মেরামত করা না হয় তাহলে তো সুযোগ সুবিধ থাকবে না। ওরকম ভালো ভালো নেত্রীদের ওরকম আমরা সুযোগ দিতে পারব না; তো ওইটা প্রথমে করতে হবে, পাইপলাইন সৃষ্টি করতে হবে, আর ধরে রাখতে হবে।’
নারীদের রাজনীতিতে আসার জন্য ট্রেনিং এবং মেন্টরশিপের গুরুত্বারোপ করে জাইমা রহমান বলেন, ‘এই মেন্টরশিপ ট্রেনিং, আপনারা অনেকজন আছেন অনেক প্রফেশনে খুব বিশিষ্ট এবং অনেক তরুণরা আছে, আমরা আপনাদের কাছ থেকে শিখব অবশ্যই; মেন্টরশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম পলিটিক্সে আর সিভিক ডিউটিতে; যদি না থাকে তাহলে ও কীভাবে বুঝবে যে, ঠিক আছে আমার এইভাবে এই পথে যাওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখি পুরুষদের জন্য অনেক রকম সুযোগ সুবিধা থাকে। কিন্তু নারীদের ওইভাবে দেওয়া হয় না। কালচারাল... আচ্ছা ঠিক আছে। হয়তোবা মানে এতদূর যাওয়া যায় না। মানে ইয়াং মেয়ে হয়তোবা কি না কী হয় সব ছেলেদের সাথে-- এগুলোও আমাদের দূর করতে লাগবে। কিন্তু নারীদের ওই কানেকশনটা করতে হবে। যে আচ্ছা ঠিক আছে। মেন্টরশিপ আর ট্রেনিং পলিটিক্সের মধ্যে পলিটিক্যাল পার্টি এই দায়িত্বটা নিতে হবে। সব পলিটিক্যাল পার্টি। এই দায়িত্বটা আরেকটু নিতে হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব