পঞ্চগড় প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ দলই সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ওই দলটির অবস্থান ও বক্তব্য কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়; কারণ অতীতেও তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে ভুল অবস্থানে ছিল এবং এখনো তারা জনগণের কল্যাণ চায় না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার দেবদারুতলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদের পক্ষে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের শুরুতে ওই দলটি দাবি করেছিল 'জুলাই সনদ' সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু পরে দেখা গেছে তারা ঠিকই নির্বাচনে এসেছে। আবার দাবি আদায় না হলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাও মানেনি। এসব কারণে দলটির অবস্থান ও বক্তব্যে চরম বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে এই দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এ কথা দেশের মানুষ জানে। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে দেশের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যায় না। স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে বাংলাদেশ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে সমস্যা তৈরির চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনোভাবেই এই নির্বাচনকে বানচাল হতে দেওয়া যাবে না। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে জনগণের বিজয়ের নির্বাচনে পরিণত করতে হবে। আর সেই বিজয় হবে বিএনপির বিজয়, তারেক রহমানের বিজয়।
দলের ইতিহাস তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণাকারী এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর শাসনামলেই দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু হয় এবং দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ ও একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে একমাত্র বিএনপিই সক্ষম। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সে ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং ভবিষ্যতেও তারা দেশ পরিচালনায় সফল হতে পারবে না।
সবশেষে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হলে স্বাধীনতার ঘোষণাকারী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকার তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব