শাহানুজ্জামান টিটু: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার মিত্ররা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সম্ভাব্য ১৪ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং এর পরদিন অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
দলের নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন বঙ্গভবনের দিকে, কারণ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা যেতে পারে।
সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভাটি হবে গতানুগতিক ধারার বাইরে। তারেক রহমান এমন একটি টিম গঠন করতে চাইছেন, যা একদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের '৩১ দফা' বাস্তবায়ন করবে এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি আধুনিক ও কার্যকর প্রশাসনের বার্তা দেবে। ৪০ সদস্যের এই সম্ভাব্য টিমে অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা আর তারুণ্যের উদ্দীপনার ভারসাম্য রাখা হবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
নতুন এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে আলোচনা। জানা গেছে, মন্ত্রিসভার মূল নেতৃত্বে বা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দলের স্থায়ী কমিটির ঝানু রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় যাদের নাম শীর্ষে রয়েছে:মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় মহাসচিব হিসেবে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন তিনি। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,লুৎফুজ্জামান বাবর, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ, এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মতো পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বীর বিক্রম মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মতো দক্ষ নেতাদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
তারেক রহমান সবসময়ই 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় নতুনদের জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। আলোচনায় রয়েছেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জোট শরিকদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও ববি হাজ্জাজ জোটের কোটায় ডাক পেতে পারেন।
এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান এবং এহসানুল হক মিলনের মতো পরিচিত মুখগুলোও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য আলোচনায় রয়েছেন।
১৫ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই তালিকাটি চূড়ান্ত নয়। তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির শেষ মুহূর্তের বৈঠকে ছোটখাটো পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এই তালিকা থেকে কয়েকজন সিনিয়র নেতা বাদ পড়তে পারেন। তাদের স্থানে তরুণদের জায়গা হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি