রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। তবে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার আকার ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে দলে চলছে বিস্তর আলোচনা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে। ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সাবেক মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য যেমন থাকতে পারেন, তেমনি প্রথমবার নির্বাচিত নবীন সংসদ সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত আকার ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।
প্রবীণদের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এজেডএম জাহিদ হোসেন-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান-কে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ-এর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
নবীন মুখ ও টেকনোক্র্যাট সম্ভাবনা
নবীনদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও কয়েকজন নতুন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও শোনা যাচ্ছে।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ভূমিকা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়ের পর বিএনপি জোটের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিকদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।
উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী পদেও চমক
মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও একাধিক নতুন মুখ আসতে পারে বলে জানা গেছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্যমের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেই এগোচ্ছে বিএনপি- এমনটাই ধারণা দলীয় মহলে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলীয় বৈঠকের পরই।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে