| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভালোবাসা আর ভালো মানুষ এখনো আছে: তমা মির্জা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৭, ২০২৫ ইং | ০৪:৪৭:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ১৫৭০৮১৩ বার পঠিত
ভালোবাসা আর ভালো মানুষ এখনো আছে: তমা মির্জা
ছবির ক্যাপশন: ভালোবাসা আর ভালো মানুষ এখনো আছে: তমা মির্জা

বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভালোবাসা আর ভালো মানুষ এখনো আছে।’

‘ছেলের মুখে হাসি ফোটাতে ২১ ঘণ্টায় সাইকেলে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন বাবা’ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার মনে নাড়া দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সেই ভিডিওটি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তমা মির্জা। আর ওপরের কথটি লিখেছেন।

এবারের ঈদে মো. রাজুর ইচ্ছা ছিল ছুটিতে পরিবারের সবার সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটাবেন। কিন্তু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চিন্তায় ফেলে দেয় তাকে। ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার বাস ভাড়া দুই হাজার টাকা। আয় কম হওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, মো. রাজুকে গাইবান্ধায় গ্রামের বাড়ি ফেরার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাহায্য করছেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঈদ সামগ্রীও উপহার দেন তাকে।

গাইবান্ধার রাজু মিয়া ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলে রেজওয়ান ইসলাম স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাকে মানুষের মত মানুষ করতে রাজু মিয়া অনেক কষ্ট করেন। কলেজে যাতায়াতের জন্য ছেলের একটা বাইসাইকেল খুব প্রয়োজন ছিল। ঢাকায় কষ্টার্জিত টাকায় একটি পুরাতন সাইকেলও কিনেছেন। কিন্তু গাড়ি ভাড়া দিয়ে সাইকেলটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার সামর্থ্য তার ছিল না। তাই ওই সাইকেল চালিয়ে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলেন। প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বগুড়ায় পৌঁছেন।

সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে বাড়িতে পৌঁছার সব ব্যবস্থা করেন। তাকে কিছু খাবারও সঙ্গে দেন। বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া মহাসড়কের এ ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামের রাজু মিয়া প্রায় দেড় দশক ঢাকার মহাখালীতে রিকশা চালান। আয়ের টাকা বাড়িতে পাঠান। তার ছেলে রেজওয়ান ইসলাম মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু কলেজে যাতায়াতের জন্য তার একটা বাইসাইকেল খুব প্রয়োজন। তাই তিনি দরিদ্র রিকশা চালক বাবার কাছে সাইকেল বায়না করেছিলেন।

ছেলে লেখাপড়া করে একদিন অনেক বড় হবে এ আশায় রাজু মিয়া গত এক মাস আগে মহাখালী থেকে দেড় হাজার টাকায় একটি পুরাতন বাইসাইকেল কেনেন। ঈদের ছুটিতে বাইসাইকেল ছেলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু সাইকেলটি বাড়ি নিয়ে যেতে তার বাস ভাড়াসহ প্রয়োজন ছিল তিন হাজার টাকার। রাজু মিয়ার কাছে ঈদ খরচসহ সবমিলিয়ে ছিল মাত্র আড়াই হাজার টাকা।

সাইকেল বাড়িতে নিতে গাড়ি ভাড়া না থাকায় তিনি প্রথমে হতাশ হন। পরবর্তীতে ওই সাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর ৫টার দিকে সাইকেল চালিয়ে ঢাকার মহাখালী থেকে গাইবান্ধার দিকে রওনা দেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে মধ্যরাতে বগুড়ায় পৌঁছান।

রাতে মহাসড়কে একা সাইকেল চালাতে দেখে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তাকে থামানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার সব কষ্টের কথা সেনা সদস্যের অবহিত করেন। তারা রিকশা চালক রাজু মিয়ার সংসারে অভাব ও ছেলের কলেজে যাতায়াতের জন্য পুরাতন বাইসাইকেল কেনার কথা শুনে আবেগাপ্লুত হন। বাড়ি পৌঁছাতে সেনা সদস্যরা তাকে সাইকেলসহ একটি ট্রাকে তুলে দেন। এছাড়া তাকে কিছু শুকনো খাবার দিয়ে সহায়তা করেন।

রাজু মিয়া আরও জানান, বাইসাইকেলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে পৌঁছার কথা কখনো চিন্তা করেননি। সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় ছেলের সাইকেল পৌঁছাতে পারছেন এতেই তিনি অনেক খুশি। তারা সহযোগিতা না করলে তার খুব কষ্ট হতো। তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের কারণেই তিনি সহজে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪