স্পোর্টস ডেস্ক: দুই দলেরই সুপার পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল ও স্কটল্যান্ডের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তবে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটিকেই স্মরণীয় করে রাখল নেপাল। ১২ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের দেখা পেল দলটি।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় নেপাল। শেষ ম্যাচে এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দলটির জন্য যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি সমর্থকদের জন্যও স্বস্তির উপলক্ষ।
১৭১ রানের লক্ষ্য সামনে নিয়ে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করে নেপাল। উদ্বোধনী জুটিতে কুশাল ভুরতেল ও আসিফ শেখ গড়ে তোলেন ৫৪ বলে ৭৪ রানের জুটি, যা রান তাড়ার ভিত তৈরি করে দেয়।
আসিফ শেখ ২৭ বলে ৩৩ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত শট নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় স্ট্রাইক রোটেশন। অন্যদিকে কুশাল ভুরতেল ৩৫ বলে ৪৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ইনিংসটি খুব বড় না হলেও দলের লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধিনায়ক রোহিত পওদেল ১৪ বলে ১৬ রান করে দলকে এগিয়ে রাখেন। যদিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, তবে মিডল অর্ডারে স্থিতি এনে দেন।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেপালের হাতে নিয়ে আসেন দিপেন্দ্র সিং আইরি। মাত্র ২৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংস খেলেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে স্কটিশ বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অন্যপ্রান্তে গুলশান ঝা ১৭ বলে অপরাজিত ২৪ রান করে দারুণ সঙ্গ দেন। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারের আগেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে নেপাল।
জোনসের হাফসেঞ্চুরিতে লড়াই গড়ে স্কটল্যান্ড
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ৭ উইকেটে তোলে ১৭০ রান। ওপেনার মাইকেল জোনস ৪৫ বলে ৭১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। শুরুতে দ্রুত রান তুলে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি।
আরেক ওপেনার জর্জ মুনসে ২৯ বলে ২৭ রান করেন, যদিও তার ইনিংস ছিল কিছুটা ধীরগতির। তিন নম্বরে নেমে ব্রেন্ডন ম্যাকমুলান ১৯ বলে ২৫ রান করেন। তবে শেষ দিকে নেপালের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্কটল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি।
নেপালের পক্ষে সোমপাল কামি ৩টি এবং নন্দন যাদব ২টি উইকেট নিয়ে স্কটিশ ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন। ডেথ ওভারে সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের কারণেই স্কটল্যান্ড প্রত্যাশিত ১৮০–১৯০ রানের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালের শেষ জয় ছিল ১২ বছর আগে। এরপর নানা আসরে অংশ নিলেও জয় পায়নি দলটি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবারের আসরে অন্তত একটি জয় নিয়ে বিদায় নিতে পারায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তা দিল নেপাল।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের সাহসী ব্যাটিং ও বোলিংয়ে শৃঙ্খলা নেপালের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিক। যদিও টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠা সম্ভব হয়নি, তবুও শেষ ম্যাচের এই জয় নেপালের ক্রিকেটে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি