ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা ও পৌর এলাকার চাঞ্চল্যকর তিনটি মামলার তদন্তের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি সরেজমিনে তিনটি মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ধৈর্য ধারণ করুন—প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌর এলাকার নওপাড়া গ্রামের সৈয়দ বাড়িতে ‘আলোর দিশা’ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গত ২৩ জানুয়ারি আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বর নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার নামে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ও কর্মচারীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহতের ছোট ভাই সাকিব মাতুব্বর বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নম্বর-২৮। এ মামলার সাত আসামির মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
গত ২০ জানুয়ারি ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কের নওপাড়া প্রাণিসম্পদ আঞ্চলিক কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তিনটি গরুভর্তি পিকআপ গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গরুর ব্যবসায়ী রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের ওবায়দুল শেখ ঈশ্বরদী হরণখোলা গরুর হাট থেকে তিনটি গরু কিনে পিকআপ গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ভাঙ্গায় সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলার শিকার হন তারা। চালককে পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে অপর একটি গাড়িতে গরু তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত সদস্যরা। ডাকাতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুটি গরু, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ গাড়ি, জবাইকৃত গরুর ২৫ কেজি মাংস, একটি ফ্রিজ এবং নগদ টাকাসহ পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছেন। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। উদ্ধারের তিন দিন পর, গত শুক্রবার রাতে পুলিশ ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারীর নাম হাসিনা পারভীন মিনু। তিনি ঢাকার শাহজাহানপুরের শান্তিবাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
তিনি শাহজাহানপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পুলিশ সুপার জানান, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন