শ্রীপুর(মাগুরা)প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের ছোনগাছা-দোসতিনা গ্রামে সালেক সর্দার ও হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দোসতিনা বাজারস্থ আলিমের চায়ের দোকানের সামনের পাকা রাস্তার উপর একটি পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের দোসতিনা ও ছোনগাছা গ্রামে সালেক সর্দার ও হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক দলাদলিকে কেন্দ্র বিবাদ চলে আসছিল। এ বিবাদের সূত্রধরে উভয় গ্রুপের লোকজন সবসময়ই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ওঁৎপেতে থাকতো । প্রতিপক্ষের কাউকে একা পেলেই তাকে ধরে নিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে জীবনের মতো পঙ্গু করে দিতো।
এভাবেই গ্রামের দুইটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় সালেক সর্দারের সমর্থক দোসতিনার গ্রামের ফিরোজ সর্দার, রাশেদুল সর্দার, সজল সর্দার, জহুর শেখ ও ছোনগাছার রুবেল শেখসহ আরোও অজ্ঞাত ৫/৬ জন জোটবদ্ধ হয়ে আলিম এর চায়ের দোকানের সামনের পাকা রাস্তার উপর ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের সমর্থক মুকুল (৪০) কে একা পেয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে।
এ সংবাদ হাবিব গ্রুপের লোকজন জানতে পেরে মূহুর্তের মধ্যে তার দলের লোকজন রামদা, ছ্যানদা, ঢাল, সড়কি, ভ্যালা, বল্লম আর লাঠিসোটা নিয়ে দোসতিনা বাজারে প্রবেশ করলে সালেক সর্দার গ্রুপের লোকজন দিক-বিদিক ছুটতে শুরু করে। একপর্যায়ে সালেক সর্দার গ্রুপের সমর্থক হালিম সর্দার(৪৫) ও খোকন সর্দার(৫৫)কে বাজারে পেয়ে হাবিব গ্রুপের লোকজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে।
ঘটনাটি বৃহৎ আকারে সংঘর্ষের রুপ নিলে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উভয় গ্রুপের আহতরা আশংকাজনক অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন মিয়া জানান, দোসতিনা-ছোনগাছা গ্রামে বিবাদমান দুইটি দলের মধ্যে মারামারি সংবাদ শুনে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এছাড়াও যে কোনো ধরণের সহিংসতা এড়াতে এবং জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখাা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু