| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফরিদপুরে ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৭:০১:অপরাহ্ন  |  ৫৫৪৮৪৮ বার পঠিত
ফরিদপুরে ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। আন্তঃজেলা এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে অংশবিশেষ আলাদা করে আবার নতুনভাবে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার সূত্র ধরে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম (৪০), পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তিনি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে তার ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে ব্যক্তিগত কাজে আদালতে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তার ইজিবাইকটি আর সেখানে নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আলাল ফকির (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-মোজাম্মেল মণ্ডল (৪৬), মো. ইলিয়াস হোসেন (৫০), মো. আবুল হোসেন মোল্লা (৬০), তানভীর শেখ (৩০), আওয়াল বিশ্বাস (৬৫), বদিউজ্জামান মোল্লা (২৭), মৃদুল মীর মালোত (২৯), মিলন খান (৪২), মো. আশরাফ (২৮), শহিদ সিকদার (৩৮), মো. জুয়েল রানা (৩৪) এবং মো. রনি মিয়া (৩১)। তারা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে অপরাধ পরিচালনা করত। প্রথমে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করত। এরপর গোপন গ্যারেজে নিয়ে ইজিবাইক ভেঙে চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিনসহ বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হতো। পরে এসব খণ্ডিত অংশ একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক তৈরি করা হতো। চোরাই ইজিবাইক শনাক্ত করা কঠিন করতে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এরপর কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ইজিবাইক বিক্রি করা হতো।

পুলিশের অভিযানে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সচল এবং ৬টি অচল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি চ্যাসিস, ১টি বডির কাটা অংশ, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৩টি কেবিন, ২টি মাঝের বেড়া, ২টি পিছনের বেড়া, ২টি বাম্পার, ১টি সকেট জাম্পার, ১টি কাটার মেশিন এবং ৫ ট্রাক পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ। 

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চুরি করে তা খণ্ডিত অংশে ভেঙে ফেলে এবং পুনরায় জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক হিসেবে বিক্রি করত। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্য থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং ক্রয়ের আগে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে। কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের এই সফল অভিযানে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় ইজিবাইক চুরির প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪