রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আল্লাহতায়ালা মাঝে মাঝে মানুষকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন করেন, যা তাঁর কুদরতের নিদর্শন। ভূমিকম্প এর মধ্যে অন্যতম।
মানুষ যখন এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন তিনি আল্লাহর কাছে বিনয়ী চিত্তে সাহায্য ও পরিত্রাণের জন্য দোয়া করতে বলেন।
কোরআনের নির্দেশনা
সূরা আনআম (আয়াত ৪২-৪৪): আল্লাহ বহু জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছেন, তাদের দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন করেছেন যেন তারা বিনীত হয়। কিন্তু কিছু জাতি তা না মেনে হারমোনি ভঙ্গ করেছে।
সূরা তাওবা (৭১): বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীরা পরস্পর বন্ধু হয়ে সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে নিষেধ করে। তারা নামাজ আদায় করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। আল্লাহ তাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করবেন।
সূরা তালাক (২): আল্লাহকে ভয় করলে তিনি পথ সুগম করে দেন।
নবীজীর সুন্নত
ভূমিকম্পের সময় বেশি নফল সালাত আদায় করা উচিত।
দান-সদকা বিপদ-আপদ দূর করতে সহায়ক। (বুখারি)
অন্যের প্রতি সদয় হওয়া আল্লাহর করুণা আকর্ষণ করে। (তিরমিজি)
বিশেষ দোয়া
নবীজী (সা.) ও ফুকাহায়ে কেরাম ভূমিকম্পের সময় দোয়া ও দান-সদকা করার পরামর্শ দিয়েছেন। মুসলিমরা বিশেষভাবে ইউনুস (আ.)-এর দোয়া পাঠ করতে পারেন:
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ-লিমিন
অর্থ: “তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র। আমি অবশ্যই জালিমদের মধ্যে একজন।”
করণীয়
ভূমিকম্পের সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করা।
নফল সালাত আদায় করা।
দান-সদকা ও অন্যের প্রতি সদয় হওয়া।
সমাজে সত্য ও সঠিক পথে চলা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা।
সর্বদা পাপাচার থেকে বিরত থাকা।
ভূমিকম্প এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মূলত মানুষের কর্মফলের প্রতিফলন। তাই এই সময়ে আল্লাহর কাছে বিনম্র দোয়া, নফল ইবাদত এবং সদকা-দান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম