রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান দ্রুত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাতে ইরানের প্রধান শক্তি হলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা।
১. ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা
ইরানের হাতে রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ১৫০-৮০০ কিমি। দ্রুত ও কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত।
মধ্য পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ১৫০০-২০০০ কিমি। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলাতে সক্ষম।
দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কিমি। ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে।
২. ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: নিচু উচ্চতায় উড়ে, শনাক্ত করা কঠিন।
ড্রোন: ধীরগতির হলেও কম খরচে বড়সংখ্যায় ব্যবহারযোগ্য। একসঙ্গে বহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল করার কৌশল ইরান নিতে পারে।
৩. ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও টানেল
ইরান বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল ও গোপন ঘাঁটি তৈরি করেছে। এসব স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে প্রথম হামলার পরও পুনরায় আঘাত হানার সক্ষমতা টিকে থাকে।
৪. সমুদ্র-ভিত্তিক অস্ত্র
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরান অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ-মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্ক হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
৫. বিশেষ কৌশল
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাহত করার কৌশল গ্রহণ করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে