আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি’র হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের দাবি তুলে ভোরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একাধিক দফায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী(আইডিএফ)জানিয়েছে, হামলায় হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি, উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুত-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে, যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
টানা হামলার আশঙ্কায় বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বহু স্থানে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর রকেট হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং ইসরায়েলকে আরও বড় আকারে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লেবাননে অভিযান আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
রিপোর্টার্স২৪/এসসি