আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) সকালে কুয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার কথা জানানো হলেও, পরবর্তীতে তারা নিশ্চিত করেছে যে ‘বেশ কয়েকটি’ মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো নিচে আছড়ে পড়ছে। বিমানটি কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।
কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানগুলোর ক্রু সদস্যরা সুরক্ষিত আছেন এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সোমবার সকালে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রপক্ষের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারির গোলার আঘাতে ভুলবশত ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে। তবে একাধিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর এই দাবিকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই দুর্ঘটনার রেশ পড়েছে কুয়েতের শিল্প অঞ্চলেও; কুয়েত ইন্টিগ্রেটেড পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি জানিয়েছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিনা আল আহমাদি শোধনাগারের ভেতরে পড়লে দুইজন শ্রমিক আহত হন।
এই বিমান দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েল এবং ইরান এক রক্তক্ষয়ী সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইরান সোমবার ইসরায়েলের তেল আবিব ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি জবাবে ইসরায়েলও তেহরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে এই সামরিক তৎপরতা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।
কুয়েতের এই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সমসাময়িক সময়েই সেখানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন আমেরিকান সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। এই সংঘাতের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে খনিজ তেলবাহী জাহাজের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে।
একদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অস্থায়ী কাউন্সিল গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানে নতুন নেতৃত্বের উদ্ভব না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যৌথ কারিগরি তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব