| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিএনএনের বিশ্লেষণ //বিশ্লেষক ব্রেট এইচ. ম্যাকগার্ক

৪৮ ঘণ্টা পর ইরান: কৌশলগত সাফল্য, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০২, ২০২৬ ইং | ২১:৪৭:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৪১৯৪২৩ বার পঠিত
৪৮ ঘণ্টা পর ইরান: কৌশলগত সাফল্য, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের ৪৮ ঘণ্টা পর সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সামগ্রিক কৌশলগত ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত,এমন বিশ্লেষণ দিয়েছেন সিএনএনের বৈশ্বিক বিষয়ক বিশ্লেষক ব্রেট এইচ. ম্যাকগার্ক।

তিনি উল্লেখ করেন, এমন সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্র থেকে একটি ‘নেট অ্যাসেসমেন্ট’ পান, যেখানে শক্তির ভারসাম্য, নেতৃত্বের অবস্থা ও কৌশলগত হিসাব তুলে ধরা হয়। সেই আলোকে দৃশ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

১. ইরানের আকাশে আধিপত্য

শনিবার রাতের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে জানা গেছে। এর আগে ইসরায়েলের হামলায় রুশ-সরবরাহকৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ নষ্ট হয়। ফলে এখন ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কার্যত পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২. নেতৃত্বে অস্থিরতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহত হন। এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, অনেক সামরিক ইউনিট হয়তো কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াই কাজ করছে,যা নেতৃত্বে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।

৩. উত্তরসূরি সংকট

সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠনের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান নেতৃত্ব সামনে আসেনি। সম্ভাব্য উত্তরসূরি ইব্রাহিম রাইসি দুই বছর আগে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। খামেনির ছেলে মোজতাবার নাম শোনা গেলেও তার সামনে সাংগঠনিক বাধা রয়েছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাসার কাছেও হামলার খবর এসেছে।

৪. ক্ষেপণাস্ত্র সমীকরণ

ইরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটি ও বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা। ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত হলেও স্বল্প ও মধ্যপাল্লার মজুত তুলনামূলক বেশি।

৫. উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্পৃক্ততা

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তারা সংঘাতের বাইরে থাকার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে,যা একটি বিস্তৃত জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

৬. রাশিয়া ও চীনের নীরবতা

রাশিয়া ও চীন মৌখিক নিন্দা ছাড়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করলেও বর্তমানে মস্কোর ইরানকে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। চীন ইরানি তেলের বড় ক্রেতা হলেও প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত নয়।

৭. অসম প্রতিক্রিয়া এখনো সীমিত

সাইবার হামলা, নৌপথে বিঘ্ন বা প্রক্সি গোষ্ঠীর ব্যাপক তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়। হিজবুল্লাহ দুর্বল অবস্থায় আছে; ইরাকের কিছু মিলিশিয়া সীমিত ড্রোন হামলা চালালেও পরিস্থিতি বড় আকার নেয়নি।

৮. জ্বালানি বাজারে ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি ঘিরে শঙ্কায় তেলের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ওপেক উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদক হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বড় ধাক্কার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।


৯. সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বনাম রাজনৈতিক ফলাফল

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ, নৌ ও গোয়েন্দা সক্ষমতা স্পষ্টতই এগিয়ে। তবে সামরিক সাফল্য রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করে না। নতুন ইরানি নেতৃত্ব আদর্শগত অবস্থান বজায় রাখলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

১০. স্পষ্ট সমাপ্তি নেই

এই সংঘাতের কোনো স্বাভাবিক সমাপ্তি এখনো দৃশ্যমান নয়। ইরানে সম্ভাব্য অভ্যুত্থান হলেও দমন-পীড়নের ঝুঁকি থাকবে। সেই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কি পুনরায় হস্তক্ষেপ করবে,এ প্রশ্নও উন্মুক্ত।

৪৮ ঘণ্টার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৌশলগত ও সামরিক সুবিধা পেলেও ভবিষ্যৎ পথরেখা অনিশ্চিত। সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিণতি কী হবে,সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪