আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের ওপর রকেট ও ড্রোন হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম দেশটিতে হিজবুল্লাহর সব সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং রাষ্ট্রের বৈধ প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে লেবাননের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান চালানো যাবে না।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা হাইফার কাছে একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ এবং লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।
এর জবাবে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালায়। রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত ও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বৈরুতে এক রাতের অভিযানে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন।
২০২৪ সালের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর থেকেই হিজবুল্লাহ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে লেবানন সরকার গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা নিলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাম্প্রতিক এই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণ লেবানন ও রাজধানীর উপকণ্ঠ থেকে লাখো মানুষ পালিয়ে যাওয়ায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি