আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেলানিয়া ট্রাম্প সোমবার প্রথমবারের মতো বিশ্ব নেতার স্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছেন। শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সংঘাতকালীন বিষয় নিয়ে বৈঠকটি এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে , যখন দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের ঘোড়ার আকারের টেবিলে মেলানিয়া ট্রাম্পের আসন গ্রহণের আগে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হ্যান্ডশেক এবং গ্রুপ ফটো তোলা হয়। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের সকল শিশুদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমি আশা করি, শীঘ্রই আপনারা শান্তি পাবেন।
ফার্স্ট লেডি আরও বলেন, শিক্ষা হল সংঘাত প্রতিরোধের মূলমন্ত্র। যে দেশ শিক্ষাকে পবিত্র মনে করে, সে তার বই, ভাষা, বিজ্ঞান ও গণিতকে সংরক্ষণ করে। এটি তার ভবিষ্যৎ রক্ষা করে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নতুন সমতার মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান এবং বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে, এমনকি পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করা উচিত।
মেলানিয়া ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ বা বিদ্যালয় হামলার বিষয়ে মন্তব্য করেননি। ইরানি রাষ্ট্রদূত আমীর সাঈদ ইরভানি বৈঠককে “গভীর লজ্জাজনক” বলে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিশুদের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে বৈঠক আয়োজন করছে, কিন্তু একই সময়ে ইরানি শহরে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
মার্চ মাসে নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতি পদের দায়িত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে নির্বাচিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শিশু কল্যাণ তার প্রধান বিষয় এবং এ কারণে তাকে বৈঠক পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, সংঘাত অজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হয়, কিন্তু জ্ঞান বোঝাপড়া সৃষ্টি করে, ভয়কে শান্তি ও ঐক্যতে রূপান্তরিত করে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, আমাদের সম্প্রদায়ে শিক্ষাকে রক্ষা করুন এবং সকলের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করুন। শান্তির পথে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য ভবিষ্যতের প্রজন্মকে গড়ে তুলুন।
মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সম্পর্কের অবনতি কাটিয়ে শিশু কল্যাণ ও বৈশ্বিক শিক্ষা বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।