রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি- সাদাকা অর্থ দান এবং ফিতর অর্থ উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। এক মাস রোজা পালন শেষে ঈদুল ফিতরের দিনে এই দান দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তাই এটি সাদাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত।
কাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব
ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) যে মুসলিম নর-নারীর কাছে নিজের মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে যথেষ্ট সম্পদ থাকে, যার মূল্য সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা তার বেশি, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
নেসাবের হিসাব:
টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলংকার।
ব্যবসায়িক পণ্য
বসবাস ও খাদ্যের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।
এই সব মিলে যদি নির্দিষ্ট নেসাবের সমমূল্য সম্পদ থাকে, তাহলে ফিতরা ওয়াজিব হবে।
কাকে ফিতরা দেওয়া যায়
শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী, যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, তাদেরকেই ফিতরা দেওয়া যায়। আল্লাহ কোরআনে জাকাত বণ্টনের জন্য ৮টি খাত নির্ধারণ করেছেন (সূরা আত-তাওবা : ৬০)
১. ফকির: কিছু সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পূর্ণ নয়
২. মিসকিন: সম্পূর্ণ নিঃস্ব
৩. আমিল: জাকাত আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (বর্তমানে প্রচলন নেই)
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব: ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য
৫. দাসমুক্তি: দাসকে মুক্ত করার জন্য (বর্তমানে প্রথা নেই)
৬. ঋণগ্রস্ত: ঋণের বোঝা আছে এবং সম্পদ পর্যাপ্ত নয়
৭. আল্লাহর পথে: দ্বীনের প্রচার বা দ্বীনি শিক্ষারত গরিব
৮. মুসাফির: সফরে থাকা ও টাকা শেষ হয়ে গেলে; দ্বীনি শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত
কাকে ফিতরা দেওয়া যাবে না
নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের জাকাত বা ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়:
১. নেসাবমালিক মুসলিম: যার কাছে যথেষ্ট সম্পদ আছে
২. বাবা-মা বা ঊর্ধ্বতন বংশধর
৩. সন্তান বা নিম্নতর বংশধর
৪. স্ত্রী
৫. সৈয়দ বংশ / রাসূল (সা.)-এর পরিবার
৬. অমুসলিম (তাদেরকে সাধারণ দান করা যায়, ফিতরা নয়)
৭. মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ বা দ্বীনি কর্মকাণ্ড (ইমাম-ওয়াজ, বই, মিডিয়া ইত্যাদি)
মোটকথা, ফিতরা বা জাকাত কেবলমাত্র নির্দিষ্ট হকদারদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। অন্য কোনো খাতে ব্যয় করলে তা আদায় হবে না।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে