রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রমজান মাসে সেহেরি শুধু খাওয়ার আয়োজন নয়, এখন এটি মানুষের বিনোদন ও সামাজিক মিলনের এক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার মানুষের রাত জাগার অভ্যাস এবং সেহেরিতে আড্ডার প্রথা এখন একটি উৎসবমুখর আকার নিচ্ছে।
পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় খাবারের দোকানগুলো প্রায় সারারাত খোলা থাকে। রমজান মাসে এখানে বিশেষ সেহেরি অফার যোগ হয়, যা পরিবারের সঙ্গে আড্ডার পরিবেশকে আরও উজ্জীবিত করে। মানুষ স্বেচ্ছায় এখানে আসে, মধ্যরাতেও পুরো এলাকা যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
যদিও মধ্যরাতে নারীদের চলাফেরা কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কের সৃষ্টি করে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি এক ধরনের স্বাভাবিক সামাজিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিএসসিতে মধ্যরাতের আড্ডায় কিছু বখাটে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে, যা মূলত পুরান ঢাকার সংস্কৃতির অভিজ্ঞতার অভাবে ঘটেছে।
পুরান ঢাকা ছাড়িয়ে এখন সেহেরি উৎসব রাজধানীর গুলশান ও বনানীতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফজলে রাব্বি পার্ক ও শ্যুটিং ক্লাবে সম্প্রতি আয়োজন করা হয়েছে সেহেরি আড্ডা, যা পরিবার ও বন্ধুদের মিলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরান ঢাকার অঘোষিত, স্বতঃস্ফূর্ত সেহেরি আড্ডার সঙ্গে ঘোষণা দিয়ে আয়োজন করা অনুষ্ঠানগুলোতে মানসিকতা ও আড্ডার উন্মুক্ততাতে পার্থক্য থাকে। তবুও বাঙালীর উৎসবপ্রিয় মনোভাব এই রাতের আড্ডাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশেও রমজান মাসে সেহেরি আড্ডার প্রচলন দেখা যায়। সৌদি আরবে এটি সামাজিক ও পারিবারিক মিলনের একটি নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই এখন ঐতিহ্যবাহী ইফতার আয়োজনের তুলনায় গভীর রাতের সেহরি আড্ডাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর রাতের আড্ডা এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যেখানে খাবার, আড্ডা ও সামাজিক মিলন একসঙ্গে মিলিত হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন