আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের শীর্ষ পশ্চিমা জোট জি-৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফ্রান্সে বৈঠকে বসেছেন।
প্যারিস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ১২শ শতকের পুনর্নির্মিত অ্যাবায়ে দে ভক্স-দ্য-সেরনে-তে দুই দিনের এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দিয়েছেন।
প্রায় ৫০ বছর আগে গঠিত এই জোট ঐতিহ্যগতভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করে আসছিল। তবে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেই ঐক্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির আকস্মিক পরিবর্তন শুল্কনীতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি মিত্র দেশগুলোকে চাপে ফেলেছে। তাদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য ও কৌশল স্পষ্ট নয়।
এই প্রেক্ষাপটে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছ থেকে ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চায় অন্যান্য দেশগুলো। তারা জানতে চায়, চলমান সংঘাতের অবসানে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ আছে কি না।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন নির্বাচনের আগে কিয়েভকে একটি অনুকূল নয় এমন শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করতে পারে। এ কারণে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনকে সামরিক ও জ্বালানি সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।
এক ইতালীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আমরা কিয়েভের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করব এবং রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরব।
এ বৈঠকে ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও কূটনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এসব দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের নেতৃত্বে আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকট ও বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি