আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ডের বহুমূল্য মৎস্য শিল্প প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলেরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের নৌযানগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
থাইল্যান্ড উপসাগর উপকূলবর্তী কেন্দ্রীয় প্রদেশ সামুত সাখনের বৃহত্তম মৎস্যবন্দরে ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। সামুত সাখন ফিশমঙ্গার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুমপোল কানাওয়ারি জানান, যেসব ট্রলার এখনও চলছে, সেগুলিও কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ১ এপ্রিলের পর বাজারে মাছের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ জেলেরা তাদের নাবিক ও পরিবারের খরচ বহন করতে পারবে না। তারা আর টিকে থাকতে পারবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে থাইল্যান্ড প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের মৎস্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনে রপ্তানি করেছে। তবে বর্তমান সংকট নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অর্থমন্ত্রী একনিতি নিতিথানপ্রাপাস জানিয়েছেন, জেলেদের সহায়তায় সরকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রস্তুত করছে। এতে বি২০ বায়োডিজেল ও পাম তেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জ্বালানির মূল্য আরও বৃদ্ধি না পায়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ১০০ দিনের তেলের মজুত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ২৯.৯৪ বাত, যা বেড়ে বর্তমানে ৩৮.৯৪ বাত (প্রায় ১.১৯ ডলার) হয়েছে।
জেলেরা বলছেন, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪০ বাত ছাড়ালে মাছ ধরার কার্যক্রম চালানো আর সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যে অনেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ধীরগতিতে নৌযান চালাচ্ছেন, যার ফলে মাছের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
এক জেলে বুনচু লনলুই বলেন, দাম বাড়ার কারণে আমরা ধীরে চলছি, এতে মাছও কম ধরতে পারছি। এভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
জুমপোল জানান, সামুত সাখনের মাছের বাজারে প্রতিদিন ২২টি উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৮০০ টন মাছ বিক্রি হয়। তবে বর্তমান জ্বালানি সংকট গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট, যা করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।
এ সপ্তাহের ভোরে কিছু ট্রলার আগের জ্বালানির মজুত দিয়ে মাছ নিয়ে বন্দরে ফিরতে দেখা গেছে। সেখানে জেলেরা চিংড়ি, ম্যাকারেল ও স্কুইড প্যাকেজ করছিলেন।
আরেক জেলে প্রারিয়েস মানিসুমফান বলেন, জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের নৌকা থামিয়ে দিতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি