আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ২৭তম দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে বলে তেহরানে অবস্থানরত সংবাদদাতারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী। তবে ইরান তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ নেই এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।
ইরানে পরিস্থিতি
হামলা বেড়েছে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা “সংখ্যা ও তীব্রতায় বাড়ছে” বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েল মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহানে ব্যাপক হামলার কথা জানিয়েছে।
বেসামরিক হতাহতের খবর: শিরাজ অঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় দুই কিশোর নিহত হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আলোচনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় যাবে না এবং ‘প্রতিরোধ’ চালিয়ে যাবে।
সামরিক লক্ষ্যবস্তু: যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে।
কৌশলগত সতর্কতা: ইরান আশঙ্কা করছে, শত্রুপক্ষ কোনো আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় তাদের একটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে।
হরমুজ প্রণালী: গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ছে। ইরান এ পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি
কুয়েতে গ্রেপ্তার: হেজবোল্লাহ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।
সৌদি আরব: পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বাহরাইন: মুহাররাক অঞ্চলে একটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা কর্তৃপক্ষ ‘ইরানি হামলার’ ফল বলে জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
আলোচনার দাবি: ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, তবে নিজেদের জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তা প্রকাশ করছে না।
কঠোর হুঁশিয়ারি: হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাব না মানলে যুক্তরাষ্ট্র “ভয়াবহ পরিণতি” ডেকে আনতে পারে।
কৌশলগত বার্তা: সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভাষা মূলত কৌশলগত বার্তা, সরাসরি হামলা বাড়ানোর ইঙ্গিত নয়।
ইসরায়েলে পরিস্থিতি
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বৃহস্পতিবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
অব্যাহত আক্রমণ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ও উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হানছে। একই সঙ্গে হেজবোল্লাহ পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইরাক ও লেবানন ফ্রন্ট
ইরাকে চাপ: উপসাগরীয় দেশগুলো ও জর্ডান ইরাককে তার ভূখণ্ড থেকে ইরানপন্থী গোষ্ঠীর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননে স্থলযুদ্ধ: ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করে হেজবোল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।
হেজবোল্লাহর অবস্থান: সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছে এবং লেবাননের ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।
ইরান যুদ্ধের ২৭তম দিনে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও উভয় পক্ষই কড়াকড়ি অবস্থান বজায় রেখেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি