| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কয়েক সপ্তাহেই ইরান অভিযান শেষের আশা যুক্তরাষ্ট্রের

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৮, ২০২৬ ইং | ০৭:২৯:১০:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৪২০৮ বার পঠিত
কয়েক সপ্তাহেই ইরান অভিযান শেষের আশা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে এবং এতে স্থলবাহিনী ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। শুক্রবার ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক শেষে তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান এগোচ্ছে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি সম্ভব।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প প্রস্তুতি রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র হাজার হাজার মেরিন ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও ওয়াশিংটন দাবি করছে, স্থলযুদ্ধ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়, যাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আগ্রহ প্রকাশ করে ইরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধসহ পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার শর্ত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক ও শিল্প স্থাপনায় নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। জানজান শহরে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। যদিও ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কোনো তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েল এসব হামলা চালাচ্ছে এবং এর “চড়া মূল্য” দিতে হবে। এখন পর্যন্ত সংঘাতে ইরানে প্রায় ১,৯০০ জন নিহত ও ২০ হাজার আহত হয়েছেন। লেবাননে হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে দেশটির বড় অংশের মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১২ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশটি এখনও উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ধরে রেখেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, ভবিষ্যৎ যেকোনো সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

সব মিলিয়ে, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও নতুন হামলা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪