| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৮, ২০২৬ ইং | ১০:১৫:০৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৩২১৭ বার পঠিত
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-এর গ্রেপ্তার। গত বছরের ভয়াবহ গণবিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে শনিবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই অভিযানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি জনঅসন্তোষ একত্র হয়ে বিস্ফোরিত হয় সেই বিক্ষোভে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারান—যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ বিক্ষোভকারী।

কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই গ্রেপ্তার কার্যকর করা হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি, তবে তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা ছিল ‘ফৌজদারি অবহেলা’র শামিল। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওলি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘চরিত্রহননের চেষ্টা’ বলে দাবি করেছিলেন।

এদিকে এই নাটকীয় গ্রেপ্তার ঘটে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ-এর শপথ নেওয়ার ঠিক পরদিনই। তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই উচ্চপর্যায়ের এই পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দিক থেকে।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, যিনি নিজেও ওই আন্দোলনের সক্রিয় মুখ ছিলেন, গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এটি প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠমান্ডুসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওলির সমর্থকরা যেকোনো সময় প্রতিবাদে নামতে পারেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোও সেই সময়কার সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায়ই এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এখন সবার নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নেপালের জনগণ দেখছে, এই বহুল আলোচিত ঘটনার বিচার কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।

সূত্র: বিবিসি


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪