| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরায়েলে হামলা চালালো ইয়েমেনের হুথিরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৮, ২০২৬ ইং | ১৪:৩০:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১৮২৮৩৬ বার পঠিত
ইসরায়েলে হামলা চালালো ইয়েমেনের হুথিরা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (২৮ মার্চ) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

হুথিদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত” তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

হুথিরা অতীতে ইয়েমেনের বাইরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং লোহিত সাগর ও আরব উপদ্বীপসংলগ্ন নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা যদি নতুন ফ্রন্ট খুলে দেয়, তাহলে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালী বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা অনুযায়ী বা তার আগেই এগোচ্ছে এবং “মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই” সামরিক অভিযান শেষ করার আশা করছে।

তবে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মায়ামিতে এক বিনিয়োগ ফোরামে বলেন, মিত্র দেশগুলোর সমর্থনের অভাব ন্যাটোর মতো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় তাদের পাশে থেকেছি, কিন্তু এখন তাদের আচরণের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে আমাদেরও হয়তো সবসময় পাশে থাকতে হবে না।

যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে। হাজার হাজার মেরিন সদস্যবাহী দুটি বহর ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং আরও এলিট এয়ারবর্ন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। এতে করে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান বারবার এমন কোনো আলোচনার বিষয় অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বাড়িয়েছে। অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ভোরে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এতে অন্তত একজন নিহত হয় এবং তেল আবিব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আবুধাবির খালিফা বন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর আগুন ধরে যায় এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন।

অন্যদিকে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জানজান শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪