আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, কোনো দেশ যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা করতে না দেয়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান আগে থেকে হামলা চালায় না। তবে আমাদের অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হলে আমরা শক্ত প্রতিশোধ নেব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায়, তাহলে তাদের উচিত হবে নিজেদের ভূখণ্ডকে ‘শত্রুদের যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এক মাস পেরিয়ে গেলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই। পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতে ড্রোন হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন আহত হন এবং বন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ডেনিশ শিপিং কোম্পানি
মার্স্ক। বাহরাইনে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়, যদিও সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দুবাইয়ে অবস্থিত একটি ইউক্রেনীয় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ডিপো ধ্বংস করেছে, যা নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছিল। তবে এ দাবি নাকচ করেছে ইউক্রেন।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগের দিন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের কড়া সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা এখন এই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি