আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমান রুট ও বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যা ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ওষুধ আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অনেক ওষুধের মেয়াদ স্বল্প এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ (কোল্ড-চেইন) প্রয়োজন হওয়ায় দীর্ঘ স্থলপথে পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যুদ্ধের কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহাসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বিমানবন্দর ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে ওষুধ পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। বিশেষ করে এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং ডিএইচএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প পথ খুঁজছে। কেউ কেউ সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ হয়ে স্থলপথে ওষুধ পাঠাচ্ছে। এছাড়া ইস্তাম্বুল এবং ওমানকেও বিকল্প ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের “কোল্ড-চেইন করিডোর” দ্রুত গড়ে তোলা সহজ নয়। ফলে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সরবরাহ বিশ্লেষকদের মতে, তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধের মজুত সাধারণত প্রায় তিন মাসের মতো থাকে। বিশেষ করে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ক্যানসারের ওষুধগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে কিছু হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
এদিকে লজিস্টিকস খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান বলছে, আপাতত সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত রুট পরিবর্তন, অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ওষুধ নয়, ওষুধ উৎপাদনের উপকরণ—যেমন ভায়াল স্টপার, আইভি ব্যাগের প্লাস্টিকসহ অন্যান্য সরঞ্জামের সরবরাহও বিঘ্নিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতে গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি