আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার অন্তত ২৫টি তেলবাহী জাহাজ সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করেছে, যদিও সেগুলো আটক করতে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এমন ঘোষণা দেওয়ার পরও ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে রুশ জাহাজ চলাচলের হার কমেনি। এসব জাহাজকে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব জাহাজে চড়াও হয়ে (বোর্ডিং) আটক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সামরিক বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ “কেস-বাই-কেস” ভিত্তিতে নেওয়া হবে এবং সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা হবে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে যুক্তরাজ্য সরাসরি পদক্ষেপ নিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
একজন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, রুশ জাহাজ আটক করতে গেলে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং এতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরেক বিশ্লেষকের মতে, জাতিসংঘের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া বিদেশি জাহাজে হস্তক্ষেপের আইনি ভিত্তি খুবই সীমিত। ফলে যুক্তরাজ্য মূলত ‘হুমকি’ দিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।
স্টারমার বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন যেন তেলের বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে লাভবান হতে না পারেন, সেজন্যই এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির, যার ফলে তেলের দাম বেড়েছে। এতে রাশিয়ার আয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও সুইডেন ইতোমধ্যে কয়েকটি রুশ জাহাজ আটক বা তল্লাশি করেছে, যাতে এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর কার্যক্রম ব্যাহত করা যায়।তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য এখনো সরাসরি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের অবস্থান কিছুটা দুর্বল বলে মনে হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি