স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যারা ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ শহীদের রক্ত অস্বীকার করেন, এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি অস্বীকার করতে চান, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা, শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা এবং মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সঙ্গে বেঈমানি করা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং বালুর মাঠে মাসব্যাপী নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু এ কথা বলেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য বুলু বলেন, যারা আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনকে ভুল বুঝিয়ে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে তাদের ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন, তাদের ব্যাপারেও হুঁশিয়ার থাকতে হবে। সেদিন মা-বোনের ইজ্জত সম্ভ্রমহানির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন- ‘যুদ্ধের ময়দানে মা-বোনেরা নাকি গনিমতের মাল, এটা নাকি জায়েজ।’ নাউজুবিল্লাহ।
বুলু আরও বলেন, বেহেশতের টিকিট কেউ বিক্রি করতে পারে না। আল্লাহর রসুলও বেহেশতের টিকিট দিতে পারেননি। একদিন উনার প্রিয় কন্যা ফাতেমা উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি বেহেশতে যাব কি না?। তিনি বললেন- মা আমি তোমাকে বেহেশতে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারি না। আল্লাহর কাছ থেকে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছি। হাশরের ময়দানে উম্মতদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি নিয়ে এসেছি। তোমার আখলাক, ইবাদত বন্দেগি, স্বামীর খেদমত, সব কিছু যদি আল্লাহ রাজি খুশি থাকে। তাহলে তুমি বেহেশতে যাবে। হাশরের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি।
বুলু বলেন, আজ বাংলাদেশের গরিব মা-বোনকে যারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে ভোট দিয়েছেন, তারা ইসলামকে বিদআতের পথে নিয়ে গেছেন এবং ঈমান-আকিদা নষ্ট করেছেন। এদের বিষয়ে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সরওয়ার উদ্দিন এবং নোয়াখালী সদর সার্কেল মো. লিয়াকত আকবর।
মেলার উদ্বোধন করেন দি নোয়াখালী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব