রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পাবনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শিশুদের সংক্রামক রোগ হাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার (৫ এপ্রিল) সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মো. কামরুজ্জান চৌধুরী। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক হাবিবুর রহমান, পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. কামরুজ্জামান, ইউনিসেফ-এর হেলথ অফিসার ডা. বিকাশ চন্দ্র দাশসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ জরুরি কর্মসূচির আওতায় পাবনা সদর, আটঘরিয়া, বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে দোগাছি ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নে হাম রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সচিব মো. কামরুজ্জান চৌধুরী জানান, প্রায় ৬০৪ কোটি টাকার ১০ ধরনের টিকা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউনিসেফকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গ্যাভি থেকে টিকা সংগ্রহ করে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। বর্তমানে দেশে টিকার কোনো সংকট নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হাম আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন রোগী পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ জন, যাদের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকিরা শিশু।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাবনা জেলায় মোট ১৯৩ জন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার আশা প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম