আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুবাই ও ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তি না হলে তেহরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়নি। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও এখনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত নয়।
প্রস্তাবিত এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে সারারাত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে প্রস্তাবের জবাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হুমকি ও চাপে আলোচনা চালানো সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, একটি দুই ধাপের চুক্তির আওতায় ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা চলছে, যা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিতে রূপ নিতে পারে।
সংঘাতের মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েল-এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে এবং দেশটির নেতাদের একে একে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৪০ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৪৪ জন শিশু। অপরদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে ১,৪৬১ জন, যার মধ্যে ১২৪ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর এখতিয়ার সীমাবদ্ধ থাকায় এ ধরনের অভিযোগের বিচার জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি