আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের লেবাননে বড় ধরনের স্থল ও বিমান হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রণালি অতিক্রম করলেও বর্তমানে সব ধরনের চলাচল স্থগিত রয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।
ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েল সেই দাবি নাকচ করে জানায়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকেও সরে আসতে পারে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ একইসঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, হামলা বন্ধ না হলে নির্ধারিত আলোচনা বাতিল করা হতে পারে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নিতে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমকেও হুমকি দেন তিনি।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা উপেক্ষা করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এই আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ৩৯ দিন ধরে চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে লেবানন ফ্রন্টে হামলা অব্যাহত থাকায় পুরো অঞ্চলে আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।