আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সমুদ্রের নিচের গুরুত্বপূর্ণ কেবল ও পাইপলাইনে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে রাশিয়ার সাবমেরিনের গতিবিধি নজরদারিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রুশ সাবমেরিনগুলো ব্রিটিশ জলসীমা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় তাদের তৎপরতা প্রতিহত করতে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি মিত্র দেশ নরওয়ের সহায়তায় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
লন্ডনের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া ‘গোপন অভিযান’ চালানোর চেষ্টা করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো,বিশেষ করে সমুদ্রতলের কেবল ও পাইপলাইন।
এক সংবাদ সম্মেলনে জন হিলি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলতে চাই আমরা আপনাদের কার্যক্রম দেখছি। আমাদের কেবল ও পাইপলাইনের ওপর কোনো হামলার চেষ্টা হলে তা সহ্য করা হবে না এবং এর গুরুতর পরিণতি হবে।
তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ ও মিত্র বাহিনী রুশ নৌযানগুলোর গতিবিধি সফলভাবে শনাক্ত ও নজরদারিতে রেখেছে এবং বর্তমানে সেগুলো ওই এলাকা ত্যাগ করেছে। পানির নিচের অবকাঠামোর কোনো ক্ষতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এই অভিযানে একটি রুশ ‘আকুলা’ শ্রেণির আক্রমণাত্মক সাবমেরিন এবং গভীর সমুদ্র গবেষণা অধিদপ্তর (GUGI)-এর দুটি বিশেষ সাবমেরিন জড়িত ছিল বলে জানানো হয়। এসব সাবমেরিন শান্তিকালে সমুদ্রতলের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ এবং সংঘাতকালে তা ক্ষতিগ্রস্ত করার সক্ষমতা রাখে।
রুশ নৌযানগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাজ্য একটি ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ, একটি সহায়ক ট্যাংকার এবং একটি সামুদ্রিক টহল বিমান মোতায়েন করে। একই সঙ্গে নরওয়েও একটি পি-৮ টহল বিমান ও ফ্রিগেট পাঠায়।
জন হিলি বলেন, রুশ সাবমেরিনগুলো যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ না করলেও দেশটির অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মিত্র দেশগুলোর নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছিল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে উত্তর আটলান্টিক ও বাল্টিক সাগর অঞ্চলে ন্যাটো জোট তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে বিদ্যুৎ, টেলিকম ও গ্যাস পাইপলাইনে একাধিক বিঘ্ন ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসামরিক জাহাজের নোঙরের কারণে এসব ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি