আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড-কে ‘বড়, অদক্ষভাবে পরিচালিত বরফের টুকরো’ বলে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিয়েছে দেশটির নেতৃত্ব।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, আমরা কোনো বরফের টুকরো নই। আমরা ৫৭ হাজার মানুষের একটি গর্বিত জনগোষ্ঠী, যারা প্রতিদিন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি ন্যাটো জোটের মিত্র দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব মূল্যবোধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনের সময় জোটটি পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নাও থাকতে পারে,এমন মন্তব্যের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি এক পর্যায়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় ছিল বলে হোয়াইট হাউস জানায়। এর প্রেক্ষিতে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো সংহতি জানিয়ে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে।
পরে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে-এর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পথে আসার ইঙ্গিত দেন। জানানো হয়, ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
নিলসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে এবং সামনে আরও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণের আগ্রহ পুরোপুরি শেষ হয়েছে এমনটা তিনি মনে করেন না।
উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব বাড়ছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির আওতায় দেশটির দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা সম্প্রসারণের সুযোগও আছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি