| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চুক্তি হোক বা না হোক, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ইং | ১৬:৪৪:২৬:অপরাহ্ন  |  ৪৯৩৬০ বার পঠিত
চুক্তি হোক বা না হোক, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইসলামাবাদে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশকের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না, কারণ আমেরিকা ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে, তখন ওয়াশিংটন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়া বা না হওয়া আমার কাছে কোনো পার্থক্য তৈরি করে না। এর কারণ হলো, আমরা ইতিমধ্যেই জিতে গেছি।

ট্রাম্পের মতে, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি দাবি করেন, আমরা ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা করছি, কিন্তু চুক্তি যাই হোক না কেন, ফলাফল আমাদের পক্ষেই যাবে। আমরা তাদের সামরিকভাবে পরাজিত করেছি। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইসলামাবাদে উভয় পক্ষ একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির জন্য দরাদরি করছিল। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান আলোচনার টেবিলে মার্কিন প্রতিনিধিদের অবস্থানকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান উত্তজনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতির পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি জানান, শনিবার মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রবেশ করেছে এবং ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে।

যদিও ইরান এই দাবিটি অস্বীকার করেছে এবং জলপথটির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। ট্রাম্প বলেন, আমাদের মাইনসুইপার জাহাজগুলো সেখানে কাজ করছে। আমরা এই প্রণালীটি উন্মুক্ত করে দেব, যদিও আমাদের এটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ আছে যারা এটি ব্যবহার করে এবং তারা হয় ভীত, নতুবা দুর্বল অথবা কৃপণ।

এই যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে ন্যাটোর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আবারও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের ময়দানে ন্যাটো থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে বিমান হামলা শুরু করেছিল, তখন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কোনো পূর্ব পরামর্শ করা হয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রমাণ করে, তিনি ইরানকে কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নন। যেখানে ইসলামাবাদে কূটনীতিকরা শান্তির পথ খুঁজছেন, সেখানে ট্রাম্পের ‘বিজয়’ ঘোষণা এবং মিত্রদের সমালোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।

তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার, তিনি ইরানের সঙ্গে যে কোনো সমঝোতাকে মার্কিন শর্তেই দেখতে চান। হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করার ঘোষণা এবং মিত্রদের সহায়তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি আমেরিকাকে একক পরাশক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার বার্তাই দিলেন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪