রিপোর্টার্স ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বালুর মাঠে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ফেলে যাওয়া এক নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার ( ১৩ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শহরের চণ্ডীবের খান বাড়ি এলাকার সন্তানহীন দম্পতি হেলাল উদ্দিন ও সুখতারা বেগম পরিত্যক্ত অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকটিকে দেখতে পান। পরে তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম মামুনুর রশীদ এবং ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকের খোঁজ নেন।
সুখতারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী হেলাল উদ্দিন বাইরে গিয়ে বালুর মাঠে পলিথিনে মোড়ানো কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখেন। পরে আমাকে জানালে আমরা দুজন মিলে পলিথিন খুলে দেখি একটি (ছেলে) নবজাতক। তখনো বাচ্চাটি জীবিত ছিল। আমরা তাকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সন্তানহীন, তাই চেয়েছিলাম বাচ্চাটিকে সুস্থ করে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করব। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলাম না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধরসহ চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুটিকে সুস্থ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভৈরব থানাকে অবগত করলে ওসি আতাউর রহমান আকন্দের নির্দেশে এসআই সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহ থানায় নিয়ে যান।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ওসি স্যারের নির্দেশে হাসপাতাল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু