ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: গুরুতর আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিবিসি। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির এক বা একাধিক চ্যানেল কিংবা সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সমপরিমাণ ব্যয় কমাতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি জনবল কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবিসির অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রড্রি তালফান ডেভিস এক বক্তব্যে বলেন, ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় সংকোচন কার্যকর করতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যয় সংকোচন বাস্তবায়নে অবধারিতভাবেই কিছু বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এ কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে বিবিসির কোন কোন বিভাগ কতটা প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বছরের পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বুধবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেইলে ডেভিস বলেন, বর্তমানে বিবিসি গুরুতর আর্থিক চাপের মুখোমুখি রয়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ের ওপর চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা—এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা চাপে পড়েছে।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া, ভ্রমণ ব্যয়, ব্যবস্থাপনা পরামর্শ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সম্মেলন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথাও তিনি জানান।
বর্তমানে বিবিসিতে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ পূর্ণকালীন কর্মী কর্মরত রয়েছেন।
২০২৭ সালে বিবিসির রয়্যাল চার্টার নবায়নের আগে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কাঠামো ও লাইসেন্স ফি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দি বলেন, “অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো বিবিসিকেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি জানান, বিবিসির নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং আয় বাড়ানোর সম্ভাব্য সব বিকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিবিসির আয়ের একটি বড় অংশ ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রদত্ত টেলিভিশন লাইসেন্স ফি থেকে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে লাইসেন্স বিক্রির সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার, বিনোদন ও যোগাযোগ খাতের শ্রমিক ইউনিয়ন বেক্টু'র প্রধান ফিলিপা চাইল্ডস বড় আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী ছাঁটাইয়ের পর থেকেই বিবিসির কর্মীরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন। নতুন করে বাজেট কমানো হলে কর্মীদের কাজ করার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সাংবাদিকদের জাতীয় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লরা ডেভিসন বলেন, এ ধরনের ছাঁটাই পরিকল্পনা ভুল ও ক্ষতিকর এবং এটি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি করবে।
তার মতে, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী ছাড়া মানসম্মত সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ঘাটতি ও ব্যয় সংকোচনের ধারাবাহিকতার পর নতুন করে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বিবিসির মূল কাঠামোকেই দুর্বল করে দিতে পারে।
গুগলের সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন আগামী ১৮ মে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভির স্থলাভিষিক্ত হবেন। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের আগে বড় আকারের এ ছাঁটাই পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হলো।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব