| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মিয়ানমারে সাবেক প্রেসিডেন্টসহ ৪ হাজার বন্দি পেলেন ক্ষমা, সাজা কমল সু চির

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ইং | ১৯:০৬:২৫:অপরাহ্ন  |  ৪৫২ বার পঠিত
মিয়ানমারে সাবেক প্রেসিডেন্টসহ ৪ হাজার বন্দি পেলেন ক্ষমা, সাজা কমল সু চির

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মিয়ানমারে হাজার হাজার বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে, অনেকের সাজাও কমানো হয়েছে। চলতি মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সাজা কমানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। প্রেসিডেন্সি অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও ক্ষমা করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইং ৪,৩৩৫ জন বন্দির সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন।

মিন অং হ্লাইং’র পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো বন্দির নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, ‘যারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন, তাদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

মিন অং হ্লাইং’র কার্যালয় থেকে দেওয়া অন্য এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে ক্ষমা করেছেন।’

এমআরটিভি জানিয়েছে, উইন মিন্টকে ‘নির্দিষ্ট কিছু শর্তে ক্ষমা ও তার অবশিষ্ট সাজা কমানো হয়েছে।’

৮০ বছর বয়সী সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যেটিকে তার সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার আইনজীবী রয়টার্সকে জানান, সু চির সাজা ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এ নেত্রীকে তার বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দেওয়া হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইং সু চিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন।

মিয়ানমারে সাধারণত জানুয়ারি মাসে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিল মাসে নববর্ষ উপলক্ষ্যে এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।

যাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই ক্ষমার মধ্যে সব মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন করা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কমিয়ে ৪০ বছর করা ও অন্যান্য সব বন্দির সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজধানী নেপিডোতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইং শপথ নেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলো।

প্রথম ভাষণে মিন অং হ্লাইং স্বীকার করেন, দেশের সামনে এখনও অনেক ‘চ্যালেঞ্জ’ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, ‘মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

শুক্রবার ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও অনেক পরিবার জড়ো হয়েছিল। তারা আশা করছিল যে, তাদের আত্মীয়রাও মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে থাকবেন।

৩৮ বছর বয়সী অং হতেত নাইং এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘আমার ভাইকে একটি রাজনৈতিক মামলায় বন্দি করা হয়েছে। আমি আশা করছি আজকের মুক্তির তালিকায় হয়ত সে থাকবে। যদিও আমরা খুব বেশি আশা করতে পারছি না, কারণ আগের ক্ষমাগুলোতে সে সুযোগ পায়নি।’

তার এই সতর্ক অবস্থানের একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। ‘ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমার’র তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে বিভিন্ন দফায় সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশেরও কম ছিলেন রাজনৈতিক বন্দি।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ জানিয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অভিযোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকে সু চিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তাও অজানা। তার ছেলে কিম আরিস গত বছর রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিনি তার মায়ের অবস্থা সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য পেয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

শুক্রবার সাজা কমানোর এ ঘোষণাকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হলেও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে সু চির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের যুক্তি হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া যেকোনো সাজা কমানোর বদলে সম্পূর্ণ বাতিল করা উচিত। সূত্র: আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪