আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের নোবেলজয়ী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি-র কারাদণ্ড কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির নতুন সরকার। এতে করে তার মুক্তি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সামরিক জুন্টা(জান্তা) প্রধান ন অং হ্লাইংর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথের পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। শুক্রবার সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে এক-ষষ্ঠাংশ করা হচ্ছে,যা প্রায় সাড়ে চার বছরের সমান।
ফলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নির্ধারিত সাজা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই কারাভোগ সম্পন্ন হওয়ায় সু চি দ্রুত মুক্তি পেতে পারেন। তবে তার সমর্থকদের আশঙ্কা, মুক্তির বদলে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হতে পারে।
একই সঙ্গে সরকার ৪ হাজার ৩৩৫ বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে সু চির দল ন্যশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি বিপুল বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে।
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত, ভোট কারচুপি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস এবং সহিংসতায় উসকানির মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সামরিক শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার অংশ।
গত কয়েক বছরে সামরিক সরকারের দমন-পীড়নে ন্যশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির বহু নেতা-কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এ অবস্থায় সু চির সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র:আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি