ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরোপিত টোল থেকে প্রথমবারের মতো রাজস্ব আদায়ের দাবি করেছে ইরান।
দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে প্রাপ্ত প্রথম অর্থ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে কীভাবে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে বা কোন দেশ বা জাহাজ এ অর্থ পরিশোধ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টে প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং গত ৩০ মার্চ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে চূড়ান্ত সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আর আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে না।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর প্রণালিটি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ৩০টিরও বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বয় জোরদার করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি